শিশুর খোস পাঁচড়া ও স্ব্যাবিস

এখন অনেকেরই খোস পাঁচড়া হচ্ছে, বিশেষ করে বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে,  তাছাড়া এক সময় দেখা যায় পরিবারের সবাই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

সাধারণত কি কারনে এটি হয়?

সাধারণভাবে ঘুষ পাঁচটা বলে পরিচিত একটি নাম হচ্ছে স্ক্যাবিস। এটি এক ধরনের জীবাণু দ্বারা হয়ে থাকে। রোগটি ছোঁয়াচে বলে খুব সহজেই এটি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় scabies বা খোস পাঁচড়া বেশি দেখা যায়।

স্ব্যাবিসের সাধারণ পরিচিতি

শরীরের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘামাচির মত ছোট ছোট দানার আকারে স্ব্যাবিস দেখা দেয়। এগুলো খুব চুলকায় বিশেষ করে রাতের বেলা কাঁথা কম্বল কিংবা লেপের নিচে উষ্ণ পরিবেশে এই চুলকানি খুব বেড়ে যায়। একদিনের মধ্যেই দানাগুলোর মধ্যে পানির আবির্ভাব ঘটে। এ পর্যায়ে চিকিৎসা না নিলে দানাগুলোর মধ্যে পুজ হয়, এ অবস্থায় শরীরে সামান্য জ্বর থাকতে পারে ।সাধারণভাবে শরীরের যেসব অঞ্চলে এগুলো দেখা যায় তা হলঃ

  • হাত পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে
  • কব্জিতে
  • বগল ও উরুসন্ধিতে
  • তবে এক পর্যায়ে সারা শরীরেই দেখা দিতে পারে

খোস পাঁচড়ার কার্যকর কোন চিকিৎসা কি আছে?

খোস পাঁচড়া scabies সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য একটি রোগ। তবে চিকিৎসা করাতে হবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এজন্য ফ্লুক্লক্সসিলিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করা যেতে পারে। ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গায়ে লাগানো ওষুধ দিতে হয়। গায়ে লাগানো এইসব ক্রিম লোশনের মধ্যে রয়েছে  ৫% পারমেথ্রিন,বেনজাইল benzoate ২৫% বড়দের জন্য, ১২.৫% ছোটদের জন্য crotamiton,  ক্ষেত্রবিশেষে এগুলো দুই থেকে তিন দিন নিয়ম অনুযায়ী চোখ মুখ দিয়ে bab বাদ দিয়ে সারা শরীরে মাখতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একবার হওয়ার পর বারবার এটি কেন হয়?

চিকিৎসা সঠিকভাবে না করালেই করালেই এমনটি হতে পারে। অনেক সময় ইনফেকশনের চিকিৎসা না করিয়ে গায়ে লাগানোর ক্রিম লোশন দিয়ে জ্বালা করে, ফলে অনেকেই এটির ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ায় চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে চিকিৎসা সাথে প্রয়োজনীয় উপদেশগুলো মেনে না চলার জন্যই বারবার দেখা যায়।

নষ্ট হতে পারে কিডনিও

খোস পাঁচড়া সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে ত্বকের তীব্র ইনফেকশন ছাড়া তা কিডনিকেও প্রদাহে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশন কিডনি কোষের একক নেফ্রনকে প্রদাহযুক্ত করতে পারে। কিডনির এই মারাত্মক রোগটি শিশুর জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।

খোস পাঁচড়া প্রতিরোধে উপদেশগুলো কি?

উপদেশ গুলো খুব সাধারন। যেমনঃ  চিকিৎসা শুরু থেকেই রোগীর ব্যবহার্য সব ধরনের কাপড় চোপড় সাবান দিয়ে সিদ্ধ করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সিদ্ধ করা সম্ভব না হলে ধোয়ার পর কাপড় ইস্ত্রি করে নিতে হবে। পরিবারের অন্যদেরও রোগ থাকলে তাদের চিকিৎসাও  একই সঙ্গে করাতে  হবে। এই কাজগুলো না করে শুধু চিকিৎসা করে কোন লাভ নেই বরং বার বার হয় রোগ আরো জটিল হবে।

ডাঃ সজল আশফাক- হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *